ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্তের জীবনী ও কর্মজীবন

আমরা বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করি তারই ধারাবাহিকরায় আজকে আমরা আলোচনা করব দেশ বরেণ্য ডাক্তার ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত সম্পর্কে। আপনারা হয়ত তাকে একজন ডাক্তার হিসেবে চিনেন কিন্তু তিনি একধারে লেখক ও রাজনিতিবীদ। আপনাদের এই গুণী মানুষ সম্পর্কে জানার আগ্রহের কারণে আমরা তার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব। প্রাণ গোপাল দত্তের জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগ্রহ থাকলে আমাদের লেখাটি পড়তে পারেন

বাংলাদেশী জনপ্রিয় ও প্রথম সারির চিকিৎসক ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত হলেন একজন রাজনীতিবিদ এবং কুমিল্লা-৭ আসনের প্রতিনিধিত্বকারী বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য। ২০১২ সালে, তিনি চিকিৎসা সেবায় অসামান্য সাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক “মেডিসিনে স্বাধীনতা পুরস্কার” লাভ করেন। তাছাড়া তিনি সমাজে নানা অবদানের জন্য অনেক পুরুষ্কার পান ও অনেক সম্মানে সম্মানিত হন। তিনি অনেক গবেষণা মূলক বই লিখেছেন। লেখক হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে।

এক নজরে ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত

নামঃ প্রাণ গোপাল দত্ত

জন্মঃ ১৯৫৩ সালের ১ অক্টোবর

জন্মস্থানঃ মহিচাইল, চান্দিনা, কুমিল্লা

পেশাঃ রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক ও লেখক

জাতিয়তাঃ বাংলাদেশী

লিঙ্গঃ পুরুষ

ভাষাঃ বাংলা

ধর্মঃ সনাতন

রাজনৈতিক দলঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

সংসদ সদস্যঃ কুমিল্লা-৭

সংসদ সদস্য নির্বাচিতঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

বৈবাহিক অবস্থাঃ বিবাহিত

স্ত্রীঃ জয়শ্রী রায় জয়া

সন্তানঃ দুই জন ( ১ মেয়ে অনিন্দিতা দত্ত ও ১ ছেলে অরিন্দম দত্ত )

পিতাঃ পিতা কালা চান দত্ত

মাতাঃ কিরণ প্রভা দত্ত

ভাই-বোনঃ ৩ ভাই ও ৩ বোন

গায়ের রংঃ শ্যামলা

প্রফেসর ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্তের প্রাথমিক জীবন

প্রফেসর ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত কুমিল্লা জেলার চান্দিনার মহিচাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তা পিতার নাম কালা চান দত্ত ও মাতার নাম কিরণ প্রভা দত্ত। তাদের চার পুত্র ও তিন কন্যার মধ্যে প্রফেসর ডাঃ প্রাণ গোপাল ছিলেন দ্বিতীয়। চঞ্চল প্রকুতির প্রাণ গোপাল দত্তের শৈশব কেটেছে গ্রামে তার বাবা-মায়ের সাথে। গ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অনেক প্রিয়।

আরো জানুনঃ গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ 

প্রাণ গোপাল দত্তের পড়াশোনা

তিনি চান্দিনার মহিচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৬৮ সালে কুমিল্লার চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন করেন। ১৯৭০ সালে কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এরপর তিনি ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন এবং ২০ জানুয়ারী, ১৯৮০ সালে বৃত্তি নিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে যান, প্রথমে স্নাতকোত্তর (এমএস) এবং পরে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ৭ জুলাই, ১৯৮৩ সালে দেশে ফিরে আসেন।

আরো জানুনঃ সিজারের পর মায়ের যত্ন

ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্তের কর্মজীবন

মেধাবী প্রাণ গোপাল দত্ত ১৯৭৭ সালে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি কান, নাক ও গলা (ইএনটি) বিভাগে যোগদান করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। তিনি রংপুর বিভাবে অবস্থিত রংপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজেও অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ১৯৯৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ইএনটি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। তাছাড়া তিনি ভিবিন্ন সময় ভিবিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি ডাক্তারি পেশায় খুবই সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের বিখ্যাত ডাক্তার হিসেবে তার নাম চলে আসে সবার উপরে।

আরো জানুনঃ গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকা

ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্তের রাজনৈতিক জীবন

ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্তের রাজনীতিক জীবন শুরু হয় ছাত্র থাকা অবস্থায়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে পড়ার সময় রাজনীতি শুরু করেন ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

৩০ জুলাই ২০২১ তারিখে, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আলী আশরাফ মারা যান। আলী আশরাফ মারা যাওয়ার পর সেই আসনে উপ-নির্বাচনে দত্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়ে তিনি কুমিল্লা-৭ আসনের প্রতিনিদ্বিত্ব করছেন সংসদে। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার নির্বাচনি এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন।

শেখ কথা

আশাকরি আমাদের এই লেখার মাঝে থেকে প্রাণ গোপাল দত্ত এর জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেনবিখ্যাত এই ব্যক্তি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত থাকে তাহলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। আপনাদের মূল্যবান মতামত আমরা গুরুত্বের সাথে দেখব। ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top